মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে প্রেমিকের সামনেই প্রেমিকাকে ধর্ষণ, অতঃপর আত্মহনন

Raja SaimonRaja Saimon
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  08:50 AM, 28 June 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক :: প্রেমিক অয়নের সঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরোয় আফরোজা। কিছুদূর যাওয়ার পর কয়েকজন বখাটে তাদের মোটরসাইকেলটি থামায়।

বখাটেরা আফরোজা ও অয়নকে তাদের ক্লাবঘরে নিয়ে যায়। সেখানে অয়নের সামনেই আফরোজাকে ধর্ষণ করে তারা। এর পর বখাটেরাই আফরোজাকে তার ফুপুর বাড়িতে রেখে আসে। পরদিন শুক্রবার সেখানেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন আফরোজা।

ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের গ্রামের কাজী আরিফুর ইসলামের মেয়ে আফরোজা আক্তার (১৫)। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তার প্রেমিক অয়ন আলীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘুরতে যায়। তারা ঘরিয়ালা এলাকায় পৌঁছলে  রতন, তন্ময়সহ কয়েকজন বখাটে তাদের মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে। পরে তারা আফরোজা ও অয়নকে মোটরসাইকেল থেকে জোর করে নামিয়ে তাদের ক্লাব ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত আটকে রাখা হয় তাদেরকে। একপর্যায়ে অয়নের সামনেই আফরোজাকে ধর্ষণ করে বখাটেরা। পরে বখাটেরাই আফরোজাকে তার ফুপুর বাড়িতে রেখে আসে। শুক্রবার সেখানেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন আফরোজা।

শুক্রবার (২৭ জুন) দুপুরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন আফরোজা। এদিকে ওই রাতেই আফরোজার প্রেমিক একই উপজেলার কাকনা গ্রামের আনছার আলীর ছেলে অয়নকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার প্রেমিক অয়ন আলী বলেন, তিনি আফরোজাকে নিয়ে বৃহস্পতিবার ঘুরতে বেড়িয়েছিলেন।  উদীয়মান ক্লাবের ছেলেরা তাদেরকে আটক করে মোবাইল ফোন টাকা পয়সা নিয়ে নেয়। এর পর তারা আফরোজাকে মারধরের করে ভয় দেখিয়ে তার সামনেই ধর্ষণ করে।

আত্মহননের আগে শুক্রবার সকালে আফরোজার বাবা স্থানীয় মুরুব্বীদের নিয়ে অয়নকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু আফরোজাকে বখাটেরা ধর্ষণ করেছে বলে ওই বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন অয়ন।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী অয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অয়ন বখাটে রতন ও তন্ময়ের বিরুদ্ধে আফরোজাকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছে। তার অভিযোগ কতটা সত্যতা রয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :