মৌলভীবাজারের রাজনগরে যুবতীকে গণধর্ষণের পর হত্যা, গ্রেফতার ৬

Raja SaimonRaja Saimon
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:36 PM, 07 July 2020

এমরান আহমেদ :: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের চাঁনভাগ দক্ষিণ টিলা গ্রামে গত ১২ জুন অজ্ঞাত তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে বেড়িয়ে আসে আশ্চর্যজনক সব তথ্য। আত্মহত্যা নয়, গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয় মেয়েটিকে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই মহিলাসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে দুইজন মহিলা অজ্ঞাত তরুণীর হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার দায় শিকার করে আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্ধি দিয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর আড়াই টায় মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার)।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন, রাজনগর উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের মৃত তরমুজ মিয়া ওরফে তম্মু মিয়ার পুত্র জমশেদ মিয়া (৫২), একই উপজেলার চাঁনভাগ গ্রামের হোসেন খাঁন এর পুত্র বাদশা খাঁন (৩২), সৈয়দনগর (ভাঙ্গারহাট) এর ইলাছ মিয়া পুত্র শিপন মিয়া (৩০), চাঁনভাগ (টিলাগাঁও) গ্রামের মজিদ মিয়া স্ত্রী এনা বেগম ওরফে গোলাপী (৩৫), একই গ্রামের মনির মিয়ার পুত্র জাহাঙ্গীর আলম (২৭) ও সিলেট গোলাপগঞ্জ থানার রনিখাই গ্রামের মৃত আব্দুল কাদির এর স্ত্রী সালমা বেগম (২৫)।
এ ঘটনায় পলাতক রয়েছেন বড়দল গ্রামের মৃত শেখ আবুল কালাম আজাদ এর পুত্র শেখ হুমায়ুন আহমদ (২৫)।
পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার) প্রেস বিফিং-এ জানান, গত ১২ জুন সকালে রাজনগর উপজেলার ২নং উত্তরভাগ ইউনিয়নের চাঁনভাগ দক্ষিন টিলা গ্রামে মুকুল মিয়ার আকাশী গাছ বাগানের একটি গাছ থেকে ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী অজ্ঞাতনামা এক তরুণীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে আলামত জব্দ করে। ময়না তদন্তে গণধর্ষণ ও হত্যার আলামত পাওয়া যায়। পরে আসামীদের ধরতে মৌলভীবাজার সদর সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জিয়াউর রহমান নেতৃত্বে রাজনগর থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসিম, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম, এস আই বিনয় ভূষন, এস আই কালাম ও এস আই অজিত কুমার তালুকদারসহ অন্যান্যদের নিয়ে গঠিত তদন্ত টিম বিষয়টি ব্যাপক ভাবে তদন্তে নামে।
এক পর্যায়ে আসামী জমশেদ মিয়াকে আটক করে নিবিরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। দীর্ঘ কৌশলী জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসামী জমশেদ মিয়া স্বীকার করে তাকে ধর্ষনের পর হত্যা করে তার লাশ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। জমসেদ এর শিকারোক্তি অনুযায়ী বাকী আসামীদের আটক করা হয়।
পুলিশ সুপার আরো জানান, অজ্ঞাত খুন হওয়া তরুণী একজন দেহব্যবসায়ী ছিল। আসামী সালমা বেগমকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, অজ্ঞাতনামা মৃত মহিলার নাম ছদ্মনাম সুমি বেগম। তবে তাহার কোন ঠিকানা জানে না এবং রুকশানা বেগম মৃত ছদ্মনাম সুমী বেগমকে আসামী সালমার নিকট দিয়েছিল। আসামীরা সালমা বেগম এর কাছ থেকে দুই হাজার টাকা চুক্তিতে এক রাতের জন্য এনেছিল। তাকে প্রথম রাতে আসামীরা এনা বেগম ওরফে গোলাপী বাড়ীতে রেখে অসামাজিক কাজ করেছিল। দ্বিতীয় দিন আবার অসামাজিক কাজ করতে চাইলে, সে রাজি না হওয়াতে তারা তাকে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে রাখে। তবে গ্রেফতারকৃত আসামীদের কাছ থেকে ঐ অজ্ঞাত নারীর পরিচয় ও ঠিকানা এখনো পুলিশ সনাক্ত করতে পারেনি।
প্রেস বিফ্রিং এর সময় উপস্থিত ছিলেন সদর সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জিয়াউর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :