শাবিপ্রবিতে প্রথমবারের মতো নির্মিত হয়েছে ট্রান্সজেনিক গ্রিনহাউস

সিলেটের আলোসিলেটের আলো
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  March 13, 2021

ধানসহ ফসলের অধিক উৎপাদন ও উদ্ভিদের উন্নতজাত গবেষণায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো নির্মিত হয়েছে ট্রান্সজেনিক গ্রিনহাউস।

শিগগিরই এই গ্রিনহাউস চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এটি চালু হলে শুধু শাবিপ্রবি নয়, সিলেট বিভাগের প্রথম ট্রান্সজেনিক গ্রিনহাউস হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে এই গ্রিনহাউস।

গ্রিনহাউসে ট্রান্সজেনিক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে বীজে জিনের পরিবর্তন ও নতুন উপাদান যুক্ত করে ফসলের অধিক উৎপাদন ও উন্নতজাত উদ্ভাবনে সক্ষম হবেন গবেষকরা। এখানে ধানের অধিক উৎপাদন ও উন্নতজাত উদ্ভাবন গবেষণার ওপর বেশি গুরুত্ব দেবেন তারা।

এখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও উপকরণ (বিশেষ করে উন্নত জাতের ধান উৎপাদনে) সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল ও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চলের লবাণক্ত এলাকার জমিতে ধান উৎপাদনে প্রয়োগ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই গ্রিনহাউসটি নির্মিত হয়েছে।

জিইবি বিভাগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগ, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগ ও বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগসহ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গবেষণার কাজে এটি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ভবন-সি এর পাশে ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এই ল্যাবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন জিইবি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক প্রধান।

গ্রিনহাউসের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজির আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের জিন নিয়ে কাজ করা হয় এবং উদ্ভিদকে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিচর্যা করা হয়’।

তিনি আরও বলেন, বিভাগের সূচনালগ্ন থেকেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হওয়া সত্ত্বেও গ্রিনহাউস না থাকায় গবেষণার ফল মাঠ পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। এই গ্রিনহাউসে কাজ করার মাধ্যমে প্রাপ্ত ফল কৃষকের দোরগোড়ায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।

ট্রান্সজেনিক গ্রিনহাউস সম্পর্কে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষা ও গবেষণায় আমরা প্রতিনিয়িত এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের মূল লক্ষ্য শাবিপ্রবিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা। এরমধ্যে আমাদের জিইবি বিভাগ অসামান্য অবদান রাখছে’।

তিনি আরও বলেন, ‘জিইবি বিভাগের অধীনে করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবটি সিলেটের মানুষের আশা-আকাঙ্খা পূরণ করছে। ট্রান্সজেনিক গ্রিনহাউসটি এক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যুক্ত করবে’।

এছাড়া তিনি বলেন, ‘ভাত আমাদের দেশের প্রধান খাদ্য। এই গ্রিনহাউসের মাধ্যমে উন্নত জাতের ধান উৎপাদনে নতুন যুগের সূচনা হবে। এই গ্রিনহাউসে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে’।

আপনার মতামত লিখুন :