একজন করোনা জয়ী ডাক্তারের গল্প

mdmd
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:20 PM, 16 May 2020

সএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। আমার বাল্যবন্ধু হোসেন এর বাড়িতে গিয়েছি মিস্টি খাবারের জন্য। গিয়ে দেখি পরীক্ষার্থী নিশ্চুপ ; হোসেন অসন্তুষ্ট। ব্যাপার কি জিজ্ঞাসা করলে হোসেনের উত্তর এই রেজাল্টে হবে না।
আর মেডিকেলে চান্স পেতে হলে আবারো পরীক্ষা দিতে হবে আগামী বছর। শিক্ষার্থীর মন খারাপ হলে ও আমরা বল্লাম সমস্যা না তুমি এম্নিতেই এক ক্লাস আগে ছিলে।
পরীক্ষা দাও যদিও নিজেই ভাবছিলাম কি বুঝালাম সত্য কাহিনী টি আমাদের বিয়ানীবাজারের কালাইউরা গ্রামের ডাক্তার শরীফ উদ্দিনের ডাক্তার হয়ে বেড়ে উঠার শুরু।

অতপর সে নানা ধাপ পেরিয়ে আজ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের হ্নদরোগ বিভাগের একজন চিকিৎসক।
আমাদের এই শরীফ ; সেই ক্লাস নাইনের এইম ইন লাইফ রচনার বাস্তব চরিত্র মানবিক আর মানবতার ডাক্তার।
এই করোনা মহামারীর সময়ে ফ্যামিলি নিম রাজি থাকলেও নিজ সিদ্ধান্তে একজন শরীফ আদমি হিসাবে ডাক্তার শরীফ নিজেকে নিয়োজিত রাখেন চিকিৎসা সেবায়। শত নেগেটিভ নিউজের সংবাদের মাঝে পজেটিভ মানসিকতা নিয়ে করোনা চিকিৎসার পাশাপাশি নিজের উদ্দ্যোগে গ্রামের মাঝে বিতরণ করেন খাদ্যদ্রব্য।
আমাদের ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুমিনুল ইসলাম রুমনের ডাকে সাড়া দিয়ে নিজে আক্রান্ত হয়ে ও আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় টেলিসেবা তে ব্যস্ত রাখেন নিজেকে।

ডাক্তার শরীফের বয়ানে ……
শরীর কিছুটা দূর্বল ছিল। ২-১দিন এভাবে অতিবাহিত হওয়ার পর মনে কেন জানি শঙ্কা ভর করে বসে। যদিও আমি ২-১জন করোনা আক্রান্ত রোগী এবং সহকর্মীদের সংস্পর্শে গিয়েছিলাম। এরপর নিজ থেকে করোনার নমুনা পরীক্ষা করালে পজিটিভ ধরা পড়ে। তবে এতে আমি মোটেও বিচলিত হইনি। বরং মনে সাহস সঞ্চয় করে নিজ বাসায় আইসোলেশনে চলে যাই। সেখানে একটি ঘরে সম্পূর্ণ সঙ্গরোধ থাকি। বিশ্বাস করুন একটিবারের জন্যও আমি হতাশ হইনি কিংবা ভয়ও পাইনি। এভাবে ১৪দিন আইসোলেশনে থাকার পর আমি সূস্থ হয়ে ওঠি। আমার সর্বশেষ নমুনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে। এখন আমি সম্পূর্ণ সূস্থ। তবে নিজ উদ্যোগে আরো সপ্তাহখানেক আমি এভাবে আইসোলেশনে থাকবো।’
ডাক্তার শরীফ ঢাকার নিজ বাসায় আইসোলেশনে থাকাকালীন নিজ উদ্যোগে কালোজিরা ও মধু একত্র করে পরিমাণমত খেয়েছেন। আবার তিনি ভিটামিন সি, জিঙ্ক, এজিথ্রোমাইসিন জাতীয় ঔষধ সেবন করেছেন।

ডাক্তার শরীফের এই করোনা আক্রান্তের সংবাদটি আমার বন্ধু হোসেন স্যার আমি নিজে এবং দুই ভাই আর বোন ছাড়া কাউকেই জানানো হয়নি। কারণ আমাদের মাঝে পজেটিভের চাইতে নেগেটিভ কে গ্রহণ এবং সংক্রামনের গ্রাফ মারাত্মক ভাবে উর্ধ্বগামী।

একজন বড় ভাই হিসাবে হোসেন আহমেদ এর তৎপরতা ছিলো চোখে পড়ার মতো। এস এ পরিবহনে যাওয়া ; মধু লেবু ইত্যাদি নানা মাধ্যম হতে সংগ্রহ করা ঢাকা পর্যন্ত যাওয়ার জন্য বন্ধু পুলিশের এএসপি র সাথে আপডেটেড থাকা।
আমরা নিজেরা যেমন এক‌টি চোরা স্রোতের মাঝে ছিলাম তেমনি ভাবছিলাম শরীফের সেই এসএসসি পরীক্ষার মতো একটি নেগেটিভ নিউজ আমাদেরকে আরো বেশী পজেটিভ করে দিবে। আজ আসলো সেই সুসংবাদ।
যেকোনো রোগ প্রতিরোধে ক্ষেত্রে আপনার শারীরিক এন্টিবডির চাইতে ও মানসিক শক্তি যে কোন অংশে ই কম নয় আমাদের শরীফ ঘটনা আজ সেই আত্মবিশ্বাসের গাছের গোড়ায় পানি দিলো।

আল্লাহর অশেষ কৃপায় কোন ধরনের হ্যাছাল ছাড়াই আমাদের শরীফ সুস্থ হয়ে পরবর্তী কর্মক্ষেত্রে লড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। করোনা যুদ্ধ আমাদের কে যে মানবিক আর মানসিক যোদ্ধা হবার শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে ডাক্তার শরীফ সেখানে একজন কামান্ডারের অগ্রণী ভূমিকায় আজ এবং আগামীর জন্য।
শুভকামনা সুন্দ লেখক।
Fujel Ahmed

 

আপনার মতামত লিখুন :